সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯   পৌষ ২ ১৪২৬   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

আজকের নাটোর
সর্বশেষ:
আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ২৬ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বুয়েটে প্রশাসন
২৭

পেঁয়াজ আনা হচ্ছে কার্গো বিমানে

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

লাগামহীন মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্গো বিমানে তুরস্ক, মিসর, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারিভাবে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টিসিবি তুরস্ক ও এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে এসব পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে পেঁয়াজের বড় চালান বাংলাদেশে আসার পথে রয়েছে। শিগগির তা বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। এ ছাড়াও সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে টেকনাফ স্থলবন্দর, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজ পরিবহনে কয়েকদিনের জন্য সমস্যা হয়েছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিমানে পেঁয়াজ আনার উদ্যোগ নিয়েছে। খুব কম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে এবং মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানিতে সময় বেশি লাগে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া মিয়ানমারও পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের দাম সহনীয় রাখতে ভর্তুকি দেয়া হবে। টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। বেসরকারিভাবে যে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে তা সরকার কিনে নিয়ে টিসিবির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করবে। বর্তমানে টিসিবি ১৬টি ট্রাকে দিনে ১ টন করে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। নতুন পেঁয়াজ এলে ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজের পরিমাণও বাড়ানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে। কেউ পেঁয়াজ অবৈধ মজুদ করলে, কারসাজি করে অতি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে বা অন্য কোনো উপায়ে বাজারে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাজার মনিটরিং করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজারে অভিযান জোরদার করেছে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- দাম কম ও সহজ পরিবহনের কারণে ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হতো। ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কিছুদিন আগে রফতানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতি টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস (এমইপি) নির্ধারণ করে দেয়। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়।

বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলসি ও বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক থেকেও এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। সম্প্রতি মিয়ানমারও পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনেকবার সভা করেছে, নিয়মিতভাবে আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধি ও নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিদিনই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন ও সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। স্থল ও নৌবন্দরগুলোতে আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সে অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমদানি করা পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

আজকের নাটোর
আজকের নাটোর
এই বিভাগের আরো খবর