• সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৬ ১৪২৬

  • || ০৫ শা'বান ১৪৪১

আজকের নাটোর
১২১০

‘চলনবিল সিটি সেন্টারে’ কর্মসংস্থান হবে ২০ হাজার মানুষের

আজকের নাটোর

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২০  

নাটোরের সিংড়ায় ১৫ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে চলনবিল ডিজিটাল সিটি সেন্টার। হাইটেক পার্ক, ইনকিবিউশন সেন্টার, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার-এই চারটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে এক ছাদের নিচে। একই জায়গায় চারটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ হওয়ায় খুশি ফ্রিল্যান্সারসহ স্থানীয়রা। তবে দুটি প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হলেও আরো দুটি প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি। কবে নাগাদ শুরু হবে তাও নিশ্চিত নয় কর্তৃপক্ষ। 

এছাড়া দৃশ্যমান দুটি প্রকল্পের ধীরগতির কাজ নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হলে চলনবিলের অন্তত ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির হবে বলে জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের শেরকোল এলাকার বিশাল এলাকা জুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে চলনবিল ডিজিটাল সিটি সেন্টার। ১৫ একর জায়গার ওপর আইসিটি বিভাগের অধীনে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি হাইটেক পার্ক, ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিবিউশন সেন্টার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সিংড়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার।

ইতিমধ্যে হাইটেক পার্ক এবং গণপূর্ত বিভাগের অধীনে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্পের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। বর্তমানে চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাইটেক পার্ক এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। হাইটেক পার্কটি নির্মাণ করছে আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক লিমিটেড এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করছে নাটোরের বনপাড়ার মীম কনসট্রাকশন। তবে প্রকল্প দুটি পাইলিংসহ ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। রয়েছে কাজের ধীরগতির অভিযোগ। 

কাজের ধীরগতি নিয়ে হাইটেক পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার মশিউর রমহান বলেন, গত বছর আমাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে কাজের অনুমতি দেরিতে পাওয়ার কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। জায়গা সিলেকশনেও অনেক সময় দেরি হয়ে গেছে। তবে পাইলিং করার পর বন্যা আসায় আবারও কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ বছর কাজ শুরু করার পর অন্তত ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

চলনবিল ডিজিটাল সিটি সেন্টারে তৈরি হচ্ছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার। দক্ষ জনশক্তি এবং শ্রমিকদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার। এই ট্রেনিং সেন্টারে তৈরি করা হবে তিনটি ভবন। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি টাকা। 

মীম কনসট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ট্রেনিং সেন্টারের কাজ করছে। গত বছর প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করেছে মাত্র ১০ ভাগ। তাছাড়া ট্রেনিং সেন্টারটি নির্মাণ করা হলে সরকার ঘোষিত প্রতি বছর এক হাজার দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জানান, নানা সমস্যার কারণে প্রকল্পের কাজ খুব বেশি দূরে এগিয়ে যায়নি। মাত্র ১৫ ভাগ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই সময়ে যেখানে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কাজ শেষ করার কথা ছিলো, সেখানে মাত্র ১৫ ভাগ কাজ করেছে তারা। তবে নিচু জমি হওয়ার কারণে মালামাল নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া চলনবিলের মাঝে হওয়ার কারণে বন্যার পানি এবং বৃষ্টির জন্য কাজ করতে পারছেনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে প্রতিষ্ঠানটির।

এদিকে চলনবিল ডিজিটাল সিটি সেন্টার নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশার আলো দেখছেন চলনবিলের ফ্রিল্যান্সাররাও। চলনবিলের প্রত্যন্ত এলাকায় চারটির মধ্যে একটি হাইটেক পার্ক, অন্যটি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিবিউশন সেন্টার হওয়ায় ফ্রিল্যান্সার তৈরির কারিগর হবে এখানে। উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব বলে জানান ফ্রিল্যান্সাররা।

সিংড়ার ফ্রিল্যান্সার এমিলি বলেন, শষ্য ভান্ডার হিসেবে সারা দেশের মানুষ চলনবিলকে চেনে এবং জানে। তবে চলনবিল ডিজিটাল সিটি সেন্টার নির্মাণ করা হলে সারা দেশের মানুষ নতুন করে চলনবিল তথা সিংড়ার মানুষকে চিনবে। এখানে উত্তরাঞ্চলের তরুণ-তরুণীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ঘোচাতে পারবে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলছেন, চলনবিল ডিজিটাল সিটি সেন্টার নির্মাণ করা হলে এখানে একখন্ড সিংঙ্গাপুর গড়ে উঠবে। অবহেলিত চলনবিলের শিক্ষিত বেকার যুবকরা ডিজিটাল সিটি সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে অন্তত ২০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এখানে। আর প্রকল্প পরিচালকদের দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

স/এমএস

আজকের নাটোর
আজকের নাটোর
নাটোর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর