শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৫ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের নাটোর
৫০৭

কেমন হবে স্বাস্থ্য সম্মত বাথরুম?

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯  

আপনার ঘুমানোর ঘর, খাবার ঘর বা রান্না ঘরের মত গোসলের ঘরও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বাথরুমকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। তবে অন্যান্য ঘরের মত বাথরুমের যত্ন ও তা তৈরির আগে কিছু স্বাস্থ্য সম্মত পদ্ধতি অবশ্যই মানতে হবে। কারণ একটু যত্ন নিলেই আপনার বাথরুম থাকবে স্বাস্থ্য সম্মত ও সুন্দর।

ভাগ করুন

বাথরুমের শুকনো ও ভিজে জায়গা কোনটি হবে তা ভাগ করে নেয়া জরুরি। আগে বাথরুমে গোসলের জায়গা থাকতো প্রথমেই ও পিছনের দিকে থাকত কমোড। কিন্তু বাথরুমকে শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে দুই ভাগে ভাগ করতে হবে। বেসিন ও কমোড নিয়ে আসতে হবে বাথরুমের দরজার দিকে। প্রথমে না রেখে ভিতর দিকে রাখুন গোসলের স্থান। শাওয়ার কার্টেন বা মেঝেতে ডিভাইডার দিয়েও ভাগ করা যায়।

মেঝে

বাথরুমে এর পরেই মেঝে বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাথরুমের মেঝে ভিজে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফলে পা পিছলে পড়ে বড় বিপদ হয়। তাই মেঝেতে এমন কোনো টাইলস ব্যবহার করবেন না, যাতে পা পিছলে যেতে পারে। বাথরুমের মেঝেতে পাথরের ব্যবহার বেশ নিরাপদ। প্রয়োজনে রাফ টাইলসও ব্যবহার করতে পারেন। তবে এমন রাফ টাইলস ব্যবহার করবেন না যার ভিতরে আবার ময়লা জমতে পারে। বিশেষ করে বাথরুমের মেঝেতে মোজাইক একেবারেই স্বাস্থসম্মত নয়। মোজাইক খুব তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যায়। এর মধ্যে যে ছোট পাথরকুচি ব্যবহার হয়, তার মাঝে ধুলো-বালি জমে নোংরা হয় তাড়াতাড়ি। ফলে জীবাণু ও রোগ ছড়াতে পারে। এখন অনেক বাথরুমেই কার্পেটের মতো ফ্লোরম্যাটও ব্যবহার করা হয়। সে রকম ম্যাট বা বাথরুম কার্পেটও রাখতে পারেন গোসলের রুমে।

দেয়াল

পানি ব্যবহার হওয়ায় তা ছিটে থাকে দেয়ালে। ফলে দেয়ালের রং নষ্ট হয়ে যায় দ্রুত। তাই অন্তত পাঁচ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত টাইলস বা ওয়াশেবল তেল রং ব্যবহার করতে হবে। যেন নোংরা হলেও তা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেলতে পারবেন।

সাজানো

বাথরুমকে স্বাস্থ্য সম্মত রাখতে ছোট ছোট ইনডোর প্ল্যান্টস রাখতে পারেন। কাচের বোতলে ছোট পাথর বা বালি দিয়ে বাইরে থেকে রঙিন ফিতা বেঁধে দিতে পারেন। বিভিন্ন রকমের আয়না দিয়ে একটা দেয়ালও সাজিয়ে ফেলা যায়। বাথরুমের বেসিনের পাশে যদি অনেকটা জায়গা থাকে সেখানে ফিশবোল বা ফুলদানি রাখতে পারেন।

আলো

বাথরুমে একটা ছোট জানালার খুব প্রয়োজন। কিন্তু সব বাথরুমে সেই জায়গা থাকে না। তার অভাব পূরণ করতে হবে আলো দিয়ে। বাথরুম বলেই কম ওয়াটের আলো নয়। একাধিক সুন্দর রঙের আলো লাগাতে পারেন। প্রয়োজন মতো বদলে বদলে জ্বালাতে পারেন তা। এতে বাথরুমটি দেখতেও সুন্দর হবে এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় করতে পারবেন।

সুগন্ধী

বাথরুমে যেন দুর্গন্ধ না আসে তাই সে দিকে খেয়াল রাখবেন। তাই বাথরুমের বাতাসকে ফ্রেশ করে এমন সুগন্ধী ফুল রাখতে পারেন।

পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্য

সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন বাথরুমের মেঝে, ফ্লোরম্যাট, কমোড, বেসিন পরিষ্কার করা উচিত। ফ্লোরম্যাটের কাজ যেন বেশি সূক্ষ্ম না হয়। তা হলে পরিষ্কার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ম্যাট খুব নোংরা হয়ে গেলে তা পাল্টে ফেলুন। মাসে এক বার বাথরুমের দেয়াল পরিষ্কার করতে পারেন। বাথরুম পরিষ্কার করতে ফিনাইল ব্যবহার করাই যায়। তবে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করবেন কি না, তা নির্ভর করছে আপনার মেঝের উপরে। বাথরুমের সব কল যেন ঠিকঠাক কাজ করে না হলে বাথরুমের মেঝেতে পানি জমে শ্যাওলা পড়তে পারে।

আজকের নাটোর
আজকের নাটোর